এখন শেখাতে হবে তেরো মাসে এক বছর

।।এখন শেখাতে হবে তেরো মাসে এক বছর।।

দাদা আজ পিঁয়াজ কত করে জানেন? সবে চায়ে এক চুমুক দিয়েছি। সমুদ্র থেকে দুই শত মিটার দূরে বৃষ্টির জন্য আটকে পড়া একটি একেবারে ছোট্ট চা বিস্কুটের দোকান চালানো এক মধ্যবয়সী মহিলার প্রশ্নটা উড়ে এলো আমার দিকে। বললাম গতকাল কিনেছি ষাট টাকা করে। তিনি বললেন আজ আশি শুনলাম। ভাবুন পেঁয়াজ আশি, সর্ষের তেল দেড়শো পেরিয়ে গেছে। চিনি সত্তর টাকা কিলো। ডালের দাম দেড়শো। গরীব বাড়ি। গয়না চাইছি না। দুমুঠো দুবেলা খাওয়ার সংস্থান কীভাবে হবে? বলি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ? শুনেই যে কথাটি বললেন আর যে হিসাব দিলেন তাতে মাথা ঘুরিয়ে গেলো। ঝাঁঝিয়ে উঠে বললেন অন্নপূর্ণা দিচ্ছে আর অন্ন কেড়ে নিচ্ছে। ইলেকট্রিক বিল থেকে মোবাইলের রিচার্জ করিয়ে এই বাজার দরে দু বেলা ওই তিন হাজার টাকায় চলে যাবে তো? আর যেখানে যান মোবাইল লাগবে। এবং সেটা যেন চালু অবস্থায় থাকে। হিসাব করে দেখুন বারো মাসে তেরো বার মোবাইল রিচার্জ করতে হয়। কারণ মোবাইল কোম্পানিগুলো তো ২৮ দিনে রিচার্জ করায়। অর্থাৎ প্রতি মাসে অন্তত পক্ষে দুদিন করে বছরে ২৪ দিন। আর ৩১ মাস ধরলে মোট ৩০ দিন হয়ে যাবে। বললেন এখন থেকে ছোটদের বারো মাসে এক বছর না বলে তেরো মাসে বছর শেখাতে হবে। এখন তো আবার শোনা যাচ্ছে অন্নপূর্ণা পেতে হলে পাকার বাড়ি থাকলে কিংবা থাকলে কয়টা ঘর আছে? এসব অনেক ফাঁকড়া বেরোচ্ছে। এবার সরাসরি জানালেন এর চেয়ে অন্নপূর্ণা বাদ দিয়ে আমার ছেলেটার একটা দশ বারো হাজার টাকার কিছু একটা কর্মসংস্থানের ( চাকরি বললেন না তিনি ) ব্যবস্থা করে দিলে সংসারটা একটু ভালো করে চলতো। জিজ্ঞাসা করি দোকানে বিক্রি বাটা হয়? যাই হোক ঘরে বসে কী করবো। বারোটা পর্যন্ত দোকান করি। তারপর বাড়ি গিয়ে রান্না বান্না। ঘরের লোকের দিন মজুরি। কাজ পেলে পয়সা। এভাবেই চলছে। ততক্ষণে উড়ো বৃষ্টি থেমে গেছে। আমিও বেরিয়ে পড়ি। স্কুটিতে স্টার্ট দিয়ে ভাবতে শুরু করি পাঁচ বছর আগে কেউ কেউ ভেবেছিল লক্ষ্মী ভাণ্ডার বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিলে পাঁচ বছর পর অনায়াসে বেড়া ডিঙিয়ে চলে যাওয়া যাবে। হয়নি। ৫০০ থেকে ১৫০০ পৌঁছেও তাদের বেড়া পেরোনো হয় নি।খরচের হিসাবে সঠিক ভাবে তেরো মাসে এক বছর বুঝে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আবার কর্মসংস্থানের কথা! তাহলে তিন হাজার থেকে শুরু করে কোথায় পৌঁছালে সেই বেড়া পেরোনো যাবে কে জানে। নাকি ধীরে ধীরে লক্ষ্মী অন্নপূর্ণারা বুঝতে পারছে ভাতা আর কর্মসংস্থানের পার্থক্য? নাকি আজকের ঘটনাটা একেবারেই ব্যতিক্রম? সময়ই এর উত্তর দেবে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *