।। হারানো রসকলিকে জীবন্ত করলো “হারায়ে খুঁজি”।।
।হারানো রসকলিকে জীবন্ত করলো ‘হারায়ে খুঁজি ‘
একশত ছুঁই ছুঁই আগে লেখা একটি গল্প রসকলি। ফাল্গুন ১৩৩৪ সালে লিখেছিলেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। তার নাট্যরূপ মঞ্চস্থ হলো তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়েরই লাভপুরের মাটিতে। হ্যাঁ ,আক্ষরিক অর্থে এক খোলা মাঠে। দর্শক ও অভিনেতারা সবাই একই সরলরেখায়। মাটিতে। নেই কোনো মঞ্চ। পড়ছে না কোনো ড্রপ সিন। আলো আঁধারিতে কোথা থেকে মাঝে মাঝে ভেসে আসছে বাউলের সুর। মাঝে মাঝে অদৃশ্য কোনো সূত্র থেকে আলো আসছে বটে, তবে তা ওই অভিনেতাদের পদচারণার শব্দ খুঁজে। হয় রামদাস যখন তার হারানো শ্রীমতীকে পনেরো বছর পর খুঁজে পাওয়ার মুহূর্তেই চোখের জলে চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেলছে। । কিংবা যখন মঞ্জরী সত্যিকারের কুল গাছের নিচে রসে বসে কাছে টেনে আনছে পুলিনকে।কিংবা একই মঞ্জরী যখন ফুঁসে উঠছে রাজাবাবুর খারাপ ইঙ্গিতের প্রতি। কিংবা গোপীনি যখন বাড়ির ব্যবহৃত বটি দিয়ে আঘাত করতে উদ্যত হয় রাজার নায়েবকে। প্রায় পঞ্চাশ মিনিটের এই নাটকে শুধু অভিনেতারা নয় সামনে বসা আক্ষরিক অর্থে আট থেকে আশি বছরের দর্শককুল তাদের অজান্তে কোনো এক সাপুড়ের বাঁশির টানে পৌঁছে যায় একশত বছর আগের পল্লীতে।আবেগে অনুভবে। কোনো দ্বিধা দ্বন্দ্ব মনে না রেখে। তারাশঙ্করের এই গল্পকে সেই একশত বছর আগেকার চলনে মননে এমন ভাবে ছবির মতো এঁকে দেওয়া হলো তা না দেখলে বোঝা যাবে না। নক্ষত্র খচিত আকাশের নিচে খোলা মাঠে বসে না আট না আশির কেউ টু শব্দটি করে নি। এক দু বার হাততালি দেওয়া ছাড়া। সত্যি বলতে কী ধীরে ধীরে দর্শককুল এই নাটকে এতটাই মগ্ন হয়ে গিয়েছিল যে আরো বেশ কয়েকবার হাততালি দিতে তারা নিশ্চিত ভুলে গেছে।
যাক এবার আসা যাক এই নাটক অভিনয় করলো কারা? বীরভূম সংস্কৃতি বাহিনী। যাদের নাম এখন জেলা ছাড়িয়ে রাজ্যে হয়ে দেশের সীমানা পেরিয়ে পৌঁছে গেছে বিদেশেও। নাট্যরূপ ও পরিচালনায় এই বাহিনীর প্রাণপুরুষ ড. উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়। আর অভিনেতারা কে কেমন বা এই সংস্কৃতি বাহিনীর যোদ্ধা অভিনেতারা কোন আকাশ থেকে নেমে এসেছে নাকি পেশাদার রঙ্গমঞ্চ থেকে উঠে এসেছে তার আভাস পাওয়া যাবে সঙ্গে থাকা ভিডিও থেকে। সেটা শুনলেই যেমন বোঝা যাবে মানুষ ও সমাজের প্রতি এদের টানটা ঠিক কোথায় বাঁধা আছে। তেমনি এও বোঝা যাবে চারপাশের এতো অন্ধকারের মধ্যে আলোর ঝলকানিও এই সমাজে আছে।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও বীরভূম সংস্কৃতি বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে তিন দিনের একটি কর্মশালার অন্তর্গত একটি ঝলক মাত্র। যার পিছনে রয়েছেন Dipak Bara Panda ও Ujjal Mukhopadhyay





