মার্কসীয় বুক ষ্টলে শিশির অধীকারী ( দেখার শেষ নেই অবাক হতে নেই)
।।দেখার শেষ নেই, অবাক হতে নেই।।
সময়টা ২০০৪-০৫ হবে। এরকমই এক দুর্গাপূজা। অষ্টমী নবমী কোনো একদিন। সন্ধ্যার সময় কাঁথি থানায় এক প্রশাসনিক বৈঠক। তাতে জনপ্রতিনিধিরাও রয়েছেন।সম্ভবত বিজয়া সম্মিলনী বিষয়ক। সেই বৈঠক শেষে বেরিয়ে এলেন তৎকালীন দক্ষিণ কাঁথির বিধায়ক ও পুরপিতা, বহু অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ শিশির অধিকারী। থানার মাঠ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে তিনি চলেছেন তাঁর অফিসে । এক দেড় শত মিটার দূরে পৌরভবনে। হঠাৎই এক অবাক করা দৃশ্য চোখে পড়লো। সেই থানা চত্ত্বরে সিপিএম দলের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি বুক স্টলে দাঁড়িয়ে পড়লেন শিশির অধিকারী। স্টলে বসা দলের লোকজন একটু অবাক। বিস্ময়ের ঘোর কাটিয়ে কয়েক মুহূর্তের পর যে দু তিন জন ছিল উঠে দাঁড়িয়ে পড়লো। হয়তো বিশ্বাস করতে অসুবিধা হচ্ছিল যে যার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক যুদ্ধ চলে তিনি এখানে এই বইয়ের স্টলে বই উল্টে পাল্টে দেখছেন! এরপর একটু সাহস নিয়ে একজন দু একটা বই তাঁকে দেখিয়ে বোঝাতে চাইলেন সেগুলো কী কী বিষয়ে। শিশির অধিকারী বললেন তিনি এখানে রাখা কোন কোন বই তিনি পড়েছেন।সেই সঙ্গে জিজ্ঞাসা করলেন সিপিএমের দু একজন নেতার শরীর স্বাস্থ্য সম্পর্কে।তারপর একটি বই হাতে নিয়ে বললেন এটি নিচ্ছি। দলের ছেলেরা আরও অবাক বিস্ময়ে কথা হারালো। সম্বিৎ ফিরতে একজন বলল হ্যাঁ হ্যাঁ নিয়ে যান। শিশিরবাবু উত্তরে বললেন আমি টাকা নিয়ে বেরোইনি। তোমাদের একজনকে সঙ্গে পাঠাও। অফিসে পৌঁছে দিয়ে দেবো। ওদের একজন বলতে চাইলো না না সে দিতে হবে না। আপনি আমাদের বই পড়বেন এটা বড় ব্যাপার। উত্তরে শিশির বাবু জানালেন আমি তোমাদের বই পড়ি না এরকমতো নয়। তবে আমি জানি এই বই ছাপাতে কত খরচ হয়। টাকা তোলা কত কষ্টকর। তাই একজনকে পাঠাও বলেই তিনি হন হন করে এগিয়ে গেলেন। পিছনে পিছনে স্টলের একটি ছেলেও চললো। শিশিরবাবু অফিসে পৌঁছে ড্রয়ার থেকে টাকা বের করে তার হাতে বইয়ের দাম দিয়ে দিলেন।
সাংবাদিকতার সফরে আমিও আগাগোড়া ছিলাম ওই দেড়শত মিটার।
কুড়ি বছরে কী অদ্ভুত বৈপরীত্য।
আজও শিশির অধিকারী মানুষের মাঝেই আছেন। অথচ বইয়ের স্টল ভাঙার জন্য ছবি ভেসে বেড়াচ্ছে।
