কোঁচালভেটির মাধ্যমে সমুদ্রে ধরা হতো পাঁচ সাতশো মণ ইলিশ

হেই রে, মাছ রে, মাছের ঝাঁক রে, ইলিশের ঝাঁক রে”।  মাঝ সমুদ্রে এরকম  ডাক শুনতে পেলেই কোঁচালভেটিতে যাওয়া ষাট সত্তর জন মৎস্যজীবী  নিমেষে ইলিশ  ধরার প্রস্তুতি শুরু করে দিত। সেই ডাক বুঝিয়ে দিত  সমুদ্রের ওই এলাকায় নিশ্চিতভাবে   প্রায় বিঘার মতো  এলাকা জুড়ে  ইলিশ  ভেসে থাকতে দেখা গেছে। সে এক হৈ হৈ ব্যাপার।বলছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের শঙ্করপুর এলাকার সত্তর বসন্ত পার হওয়া মৎস্যজীবী বিধান মাঝি।আজকের এই খোকা ইলিশের যুগে  দেড় দু কেজির পাঁচ সাতশো মণ ইলিশ একসঙ্গে সমুদ্র থেকে তুলে আনা গল্প মনে হতে পারে।তবে সত্তর, আশির দশকে তো বটেই নয়ের দশকের প্রথম দিকে বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র উপকূলে এসব চিত্র ছিল একেবারে স্বাভাবিক .

একটি লঞ্চ। সঙ্গী সাতটি নৌকা। কাছি দিয়ে লঞ্চের সঙ্গে সেগুলি পরপর বাঁধা। বেশ মজার মজার  সব নাম নৌকাগুলির। ‘জাল নৌকা’। ‘পাশি নৌকা’।   ‘খেঁদানো নৌকা’। এরকম সাতটি নৌকাকে পিছু পিছু নিয়ে  লঞ্চ  পাড়ি দিত বঙ্গোপসাগরের গভীরে। ইলিশ  ধরতে। প্রায় ষাট সত্তর জনের একটি টীম।মৎস্যজীবীদের ভাষায় এইভাবে  ইলিশ ধরার পুরো বিষয়টির নাম হচ্ছে কোঁচালভেটি। কখনো কখনো এই ব্যবস্থাকে তাঁরা সাবাড়ভেটি বলতেন। ইলিশের কোনো একটি ঝাঁককে শেষ বা সাবাড় করে দিয়ে আসা হতো বলে সম্ভবত সাবাড়ভেটি নামটি এসেছে। দু ,তিন,চার  বা পাঁচদিন  পরে  সেই লঞ্চ পাঁচ সাতশো বা তারও বেশি ইলিশ  নিয়ে ফিরে যেতো মূলত ডায়মন্ডহারবারে।

কথা হচ্ছিল বঙ্গোপসাগর উপকূলে অবস্থিত শঙ্করপুরের বিধান মাঝি, দাদনপাত্রবাড়ের ( মান্দারমনির গায়ে) শ্রীকান্ত পাত্র, শৌলার  ধনঞ্জয় প্রামানিক,   ,পেটুয়াঘাটের ( এটিও একটি মৎসবন্দর) গুরুপদ ধাড়া,দিলীপ মেটা,বাপি শ্যামল সহ  বিভিন্ন মৎস্যজীবীদের      সঙ্গে। এঁদের প্রত্যেকেরই মত হলো রুপোলি  মাছ পাওয়ার সেই সোনালী দিনগুলি হারিয়ে গেছে। এখন এসেছে বড় বড় ট্রলার। তারা কোনো বিধিনিষেধ মানে না। ছোটো বড় সব মাছ ধরছে। তাদের কাছে   অপ্রয়োজনীয় বেশ কয়েক রকমের মাছ   তারা ধরেও ফেলে দিচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এমনকি মাছের ডিম সহ  সমুদ্রের গভীরে থাকা  শ্যাওলা, ছোটো ছোটো সামুদ্রিক জলজ উদ্ভিদও  ট্রলিং এর ফলে  ধংস হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে সমুদ্রের লাগোয়া এলাকাগুলিতে  অবৈজ্ঞানিক ভাবে চলছে ভেনামি কিংবা বাগদা চিংড়ির চাষ। প্রয়োগ হচ্ছে বিষাক্ত ঔষধ। যা মিশে যাচ্ছে সমুদ্রের জলে। ফলে ইলিশ সহ বিভিন্ন সামুদ্রিক  মাছ আজ অপ্রতুল। কিনারা বা উপকূলের কাছে তো বটেই   গভীর সমুদ্রে পুরো সিজনে ইলিশের দেখা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কিন্তু সে সব দিন এরকম ছিল না। সে এক  এক হৈ হৈ ব্যাপার ছিল ।  একশো দেড়শো বড় বড় ট্রে, বরফ  সহযোগে  প্রায় ১২/১৫জন মৎস্যজীবী নিয়ে লঞ্চ তৈরি থাকতো।।সঙ্গে  সাতটি নৌকা বা বোট। দাঁড় ও পাল সহযোগের এই বোটগুলির প্রত্যেকটিতে থাকতো মোটামুটি সাত জন করে মৎস্যজীবী। একজন মাঝি। যিনি হাল ধরায় অভিজ্ঞ। চার পাঁচজন দাঁড়ি। যারা দাঁড়  বেয়ে নৌকাকে নিয়ে যেতে পারে  সমুদ্রে। আর একজন থাকতো রাঁধুনি। রান্না কাজের পর বাকি সময়ে অন্য কাজে  যুক্ত হয়ে যেতো।   তবে  কোঁচালভেটির সময়  এই বোটগুলি পাল তুলে, দাঁড় বেয়ে সমুদ্রে যেতো না।  কিনারা বা উপকূলের কাছ থেকে এগুলিকে এক সূত্রে বেঁধে লঞ্চটি টেনে নিয়ে যেতো।

প্রথম যে বোটটি লঞ্চের সঙ্গে বাঁধা হতো তার নাম ‘জাল নৌকা’। কারণ তাতে থাকতো প্রায় আধ মাইল মতো  লম্বা জাল। যা দিয়ে ঝাঁক হয়ে ভাসমান সমুদ্রের ইলিশকে ঘিরে ফেলা  হবে। জাল নৌকার ঠিক পরেই যে  নৌকাটি বাঁধা থাকতো তার নাম ‘পাশি নৌকা’। জাল নৌকার ঠিক পাশে থাকার জন্য এর নাম ‘পাশি নৌকা’। আর এর কাজ হলো  নির্দেশ পেলেই    জাল নৌকা থেকে অর্ধেক জাল নিয়ে সমুদ্রে  জাল বিছিয়ে দেওয়ার  কাজে লেগে যাওয়া।  এরপর আর যে  পাঁচটি নৌকা সঙ্গে যেতো তাদের নাম হলো খেঁদানো নৌকা। তাদের কাজ ছিল ইলিশ  খেঁদানো( তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া)

এভাবেই একদিন দুদিন তিনদিন কিংবা চার পাঁচদিন  সমুদ্রে  ঘোরাঘুরি করতে করতে লঞ্চে থাকা দূরবীন দিয়ে  লঞ্চের মাঝির বা অন্য নৌকার মাঝিদের চোখে  পড়ে যেতো ইলিশের ঝালা। ঝালা অর্থে ঝাঁক।আসলে  ইলিশ সমুদ্রে বড়  ঝাঁকেই   ঘুরে বেড়ায়। তবে  এদের সবারই মতে সমুদ্রের জলের বর্ণ , গন্ধ দেখে অভিজ্ঞ মৎস্যজীবীরা ঠিক  আন্দাজ করতে পারেন  ইলিশের ঝাঁকের অবস্থান কোথায়। একটা বিস্তীর্ণ এলাকার লাল আভা যুক্ত সমুদ্রের জল এবং জলের বিশেষ গন্ধ ইলিশ থাকার ইঙ্গিত দেয়।  ইলিশের মুখ একটু লাল হয়। তাই তাকে সোনামুখী নামেও ডাকা হয়। এছাড়া সমুদ্রে এক ধরণের  ছোটো ছোটো শিকড় জাতীয় ঈষৎ লালাভ   শ্যাওলা দেখতে পাওয়া যায়। সেগুলি খেতেই   ঝাঁক বেঁধে ইলিশ ঘুরে বেড়ায়।  তাই সমুদ্রে ভেসে থাকা   ইলিশের ওই এলাকা থেকে লালাভ রং ছড়ায়।এছাড়া   ইলিশের   জল ছাড়ার  ( জলের নিচ থেকে মুখ দিয়ে জল উপরে ছুঁড়ে দেওয়া) স্ট্যাইল দেখে অভিজ্ঞ মাঝিরা বুঝতে পারেন এখানে ইলিশ  আছে। তবে ছোটো ইলিশের ( ওজন আড়াই শো থেকে পাঁচ ছয়শো গ্রাম) ঝাঁক হলে তখন সমুদ্রের জলের রঙ হয় সাদা দুধের মতো।

  এর সঙ্গে সমুদ্রে  ইলিশ দেখতে পাওয়ার বিষয়ে  ঝিরঝিরে বৃষ্টি, পূবালি বাতাস অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এছাড়া প্রচুর বৃষ্টির ফলে বিভিন্ন  ছোটো বড় নদী বেয়ে মিষ্টি জল  সমুদ্রে এসে মিশতে শুরু করলে তার টানে ইলিশ উপকূলের সেই নদী বা খালের মুখের দিকে এগিয়ে যায় ডিম পাড়তে।  কিন্তু এখন সমুদ্রের আশেপাশে পুরানো খাল বিল যেমন বন্ধ হওয়ার মুখে তেমনি  নদীর  বিভিন্ন জায়গায় বাঁধ, সেতু সহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা হয়ে যাওয়ায় নদীর সেই স্রোত আর নেই।এসব কারণেও সমুদ্র উপকূলে ইলিশ এখন অপ্রতুল।

 ফিরে যাই কোঁচালভেটির গল্পে। বিধানবাবুদের মতে মধ্য আশ্বিন থেকে মধ্য মাঘ পর্যন্ত ছিল কোঁচালভেটির ইলিশ পাওয়ার সময় । ইলিশের সন্ধান পেয়ে মাঝির ‘ইলিশের ঝাঁক রে’ চিৎকার শুনতে পেলেই  ইলিশের ঝাঁককে খুব দ্রুত ঘিরে ফেলতে সবাই যে যার নির্দিষ্ট কাজে লেগে পড়তো।কারণ ইলিশও খুব দ্রুত স্থান বদল করতে পারে। প্রথমেই  লঞ্চ থেকে  সব নৌকাগুলিকে আলাদা করে দেওয়া হতো। ‘জাল নৌকা’ ও ‘পাশি নৌকা’  ইলিশের ঝাঁকের  গতির ঠিক বিপরীতদিকে পরস্পর বেশ একটু দূরত্বে থেকে  দুটি গোলপোস্টের  মতো তারা  দাঁড়িয়ে পড়তো। ‘জাল নৌকায়’ থাকা জালটি এই দুই  নৌকার মৎস্যজীবীরা  ততক্ষনে   অর্ধেক অর্ধেক করে ভাগ করে নিয়েছে। বাকি খেঁদানো নৌকাগুলি দ্রুত সামনের দিকে  অর্থাৎ ইলিশের গতির সামনের দিকে চলে যেতে থাকে। এবং ইলিশের  ঝালাকে কেন্দ্র করে চারদিকে কিছুটা দূরত্ব অন্তর অন্তর তারাও প্রায় অর্ধচন্দ্রাকৃতি  হয়ে   দাঁড়িয়ে পড়ে। দশ পনেরো মিনিটের মধ্যে  নৌকা দিয়ে  ‘সৈন্য’ সাজানোর কাজ শেষ হয়ে গেলে ‘জাল নৌকা থেকে গামছা উড়িয়ে সিগনাল বা  ‘যুদ্ধ’ শুরুর  সঙ্কেত দিয়ে দেওয়া হতো! সেই সংকেত পেয়ে  ইলিশ ঝাঁকের চারিদিকে প্রায় গোল করে দাঁড়িয়ে থাকা  বাকি  নৌকাগুলির   রাঁধুনিরা  নৌকায় রাখা বড় বাঁশের লগি দিয়ে ঝাঁকের দিকের জলে জোরে জোরে  পিটতে শুরু করে দিত। আর  বাকি মৎস্যজীবীরা  নৌকায় রাখা টিন কেনেস্তারা খুব জোরে জোরে বাজাতে শুরু করে দিত।  উদ্যেশ্য একটাই।ইলিশ যেন তার সামনের দিকে যাওয়ার গতিপথ পাল্টে ঠিক উল্টো পথে দৌড়তে শুরু করে। মাছ খেঁদানোর কাজ করার জন্যই  এই নৌকাগুলির  নাম’খেঁদানো নৌকা’।

এরপর শুরু হতো ইলিশকে জালে বন্দি করার কাজ। খেঁদানো নৌকাগুলির তাড়া খেয়ে ইলিশের ঝাঁক ফিরতো বিপরীত মুখে।  ততক্ষনে  সমুদ্রে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে   ‘ছয় তার সুতোর’ তৈরি   আলকাতরা মাখানো  ভারী  জাল। মৎস্যজীবীদের পরিভাষায় যার নাম ‘দেহ জাল’। সেই জালগুলির উচ্চতা বা গভীরতা সাধারণত থাকতো ছাপান্ন ‘বাম’। বা হাত মাপে এর চার গুন অর্থাৎ  প্রায়  দুই শত চব্বিশ হাতের মতো।ভারী হওয়ার কারণে দ্রুত সমুদ্রের অনেক গভীরে তা পৌঁছে যেত।দেহজালের উপরের অংশে কিছুটা অন্তর অন্তর শোলা লাগানো থাকতো যাতে উপরের অংশটি ভেসে থেকে তা  দৃশ্যমান হয়। সেই অর্থে জালটির উপরের অংশকে  স্থানীয়  পরিভাষায় ‘শোলপাড়ি’  বা ‘শুলপাড়ি’বলা হয়ে থাকে।  জালের নিচের অংশটিকে মৎস্যজীবীরা বলেন  ‘গোড়পাড়ি’ নামে। আসলে এই অঞ্চলে পা কে  ‘গোড়’  নামেও বলা হয়। সম্ভবত সেখান থেকেই গোড়পাড়ি কথাটি এসেছে। আবার  এই  লম্বা    ‘দেহজালের’ ঠিক মাঝের বেশ কিছুটা অংশ আরো মোটা সুতো অর্থাৎ নয় তার সুতোর জাল দিয়ে তৈরি  হতো। মৎস্যজীবীদের ভাষায় সেই আরো শক্তপোক্ত জালের অংশটিকে  ‘গুন জাল’ বলা হয়। চারিদিক থেকে ইলিশের ঝাঁককে এমনভাবে  তাড়ানো হতো যাতে ইলিশ এই ‘গুন জালের’ মধ্যে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। কারণ  এই শক্তপোক্ত ‘গুণ জাল’ ছিঁড়ে  ইলিশ বেরিয়ে যেতে পারবে না।অন্যদিকে  ধীরে ধীরে  বাকি খেঁদানো নৌকার মৎস্যজীবীরা হাতে হাত লাগিয়ে    জালও গুটিয়ে নিয়ে আসতো  । ইলিশের আর বাহিরে বেরিয়ে যাওয়ার পথ থাকতো না। তবে এতবড় ইলিশের চাক ঘেরায় পড়ে যাওয়ায় সময়  বিশাল সমুদ্রের মাঝে  ইলিশের লাফানোর সেই সব নয়নাভিরাম  দৃশ্যের সঙ্গে কোনো কিছুরই তুলনা চলে না বলে জানাচ্ছিলেন বয়স্ক মৎস্যজীবীরা। অন্যদিকে  জোৎস্না রাতে শান্ত সমুদ্রে দূর থেকে ইলিশের লেজের ঝাপটার শব্দ শোনাও সে আরেক  আনন্দানুভূতি।

  তবে এতেই ইলিশ ধরার কাজ শেষ হয়ে যেতো না। গভীর সমুদ্রে থাকে হাঙ্গররাও।  তারাও সুযোগ বুঝে সেই সময় আশেপাশে ঠিক পৌঁছে যেতো। জালের বাহিরের দিক থেকে  জাল কেটে তারা ইলিশ খাওয়ার চেষ্টায় থাকতো। আর তাতে তারা সফল হলে ইলিশের চাকও সেই গর্ত দিয়ে আবার সমুদ্রে পালিয়ে  যাবেই যাবে। তাই হাঙ্গরের আক্রমণ  আটকাতে দাঁড়িয়ে থাকা লঞ্চটি  এই গোল অংশটার চারপাশে ধোঁয়া ছাড়িয়ে গাঁক গাঁক শব্দ করে ঘুরতে শুরু করে দিত।  যাতে হাঙ্গররা সেই অঞ্চলে ভয়ে  ঘেঁষতে না পারে।  মোটামুটিভাবে সময়ের সঙ্গে সুনিপুনভাবে হিসেব মতো কাজ করতে পারলে এতো বড় ইলিশের ঝাঁকের বেশ  বড় অংশকেই জালে বন্দী করা সম্ভব হতো। তবে ইলিশের ঝাঁক দেহ জলের আয়তনের চেয়ে অনেক বেশি হয়ে গেলে অনেকটা ইলিশ সাবধানে জাল  থেকে বের করে দিতে হতো। না হলে সেই ইলিশের ঝাঁক জাল ছিঁড়ে নিয়ে  বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এরপর দ্রুত গুন জাল থেকে গোলা কাটানো পদ্ধতিতে এক দেড় মণ করে  ইলিশ ধাপে ধাপে একটি নৌকায় তোলা শুরু হতো। এভাবে একটি নৌকায় পঁচিশ তিরিশ মণ ইলিশ তোলা হয়ে গেলে সেটি রওয়ানা দিত কাছে  দাঁড়িয়ে থাকা সেই লঞ্চের দিকে। লঞ্চে সেই ইলিশ ওজন হয়ে  বরফ সাজানো ট্রেতে আশ্রয় নিতো। এভাবেই ছোটো নৌকাগুলির মাধ্যমে ওই পাঁচ সাতশো মণ ইলিশ লঞ্চে চেপে বসতো। তারপর সেই লঞ্চ এই সাতটি নৌকাকে আবার বেঁধে কিছুটা কিনারার দিকে পৌঁছে দিয়ে সোজা পৌঁছে যেতো ডায়মন্ডহারবারে। নিলামের জন্য।  তারপর এক দুইদিন পরে ইলিশ বিক্রির টাকা নিয়ে এসে এই নৌকাগুলির মালিকের হাতে তাদের প্রাপ্য তুলে দেওয়া হতো।  আবার কোঁচালভেটিতে বেরিয়ে পড়া। ওহ বলতে ভুলেছি স্বাদে গন্ধে ভরপুর   সেই সব এক থেকে  দুই আড়াই কেজি ইলিশের দর ছিল মাত্র  দশ বারো টাকা কিলো। কখনো কখনো অতিরিক্ত ইলিশ পড়লে  ঝুড়ি হিসাবেও ইলিশ পাওয়া যেতো। সত্যি  রূপালী আজ আমাদের   সোনালী অতীতে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে কবির ভাষাকে একটু ওদিক করে মৎস্যজীবীদের মতে বলতে হয় রাতের সব তারাই আছে মনের গভীরে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *