।।ধূসর ক্যানভাস।।
“সুকু, ও সুকু ।উঠে পড় বাবা। বেলা যে গড়িয়ে যাবে। আজ তাড়াতাড়ি বইমেলায় যাবি বলেছিলি তো। উঠে পড়। বিক্রিবাটা বাড়লে দু পয়সা ঘরে আসে তো। নাকি? “
সুকুমারকে তাড়া দিচ্ছিল তার ঠাম্মি। তবে বই বেচতে নয়। পিঠেপুলি বিক্রি করতে।
সুকুমার তখন ল্যাদ খাচ্ছে। এরকম কথাই তার ঠাম্মিকে বলেছে সে। কি যে ভাষা। দু দিন আগে ঘরে এসে বলেছিল শব্দটা। ভিন গাঁয়ের এক ছেলের মুখে সে নাকি শুনে এসেছিল। তবে সেদিন ছেলেটি তার সাধের ল্যাদ খাওয়ার বিরতি ঘটাতে বাধ্য হয়েছিল সুকুমারের জন্য। পিঠেপুলি খাওয়ার কারণে।ঘরে ফিরে সুকুমার বলেছিল, “ঠাম্মি কাল থেকে আমিও বেরোনোর আগে একটু ল্যাদ খেয়ে যাবো।” জবা হাঁ হয়ে মুখের দিকে তাকাতে সুকুমার বলেছিল, “ওহ, মানেটা বুঝতে পারলে না বুঝি। আমি আজই শব্দটা শুনলাম। তবে ব্যাপারটা জেনে এসেছি। দেখি কেমন লাগে ।তারপর তোমায় বোঝাবো।” নাতির মুখের দিকে তারপরেও হাঁ হয়ে তাকিয়ে ছিল সাড়ে তিনকুড়ি পেরোনো জবা খাটুয়া। তবে এই মুহূর্তে আর সেসব ভাবার সময় নেই। ওকে বিছানা থেকে তুলতেই হবে।
একটা মোটা চাদর গায়ে দিয়ে সুকুমার শুনতে পাচ্ছিল তার ঠাম্মির আদর মাখানো, গলা চড়ানো কথাগুলো। শুয়ে শুয়ে ভাবছিল, ঠিকই তো। ভিন গাঁয়ে বেশি না ঘুরে বইমেলায় একটু আগে পৌঁছালে ভালো বিক্রিবাটা হবে।
আসলে গতকাল শীতের বিকালে পিঠে পুলি নিয়ে সে বইমেলায় পৌঁছেছিল। বেশি বিক্রির আশায়।দেখেছিল বইমেলায় আসা মানুষজন ও সঙ্গী কচি কাঁচাদের কাছে তার পিঠে পুলির আকর্ষণ বইয়ের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। সৌজন্যে তার নিজের ও ঠাম্মির হাত যশ। সেই ছোটবেলায় ঠাম্মির কাছে শিখেছিল এই পিঠে পুলি তৈরি। আসলে তার মায়ের খুব ইচ্ছে হতো শাশুড়ির থেকে রকমারি পিঠে পুলি তৈরির আদব কায়দা শিখে নিতে । আর সেইসব শীতের সন্ধ্যাগুলোতে পড়ার বই খুলে রেখেই সুকুমার দৌড় দিত রান্না ঘরে।হাতও লাগাতো। ঠাম্মির প্রশ্রয়ের কাছে মায়ের বকুনি হার মানতো।সে কত রকমারি সব পিঠে। গ্রাম বাংলার সেই আদি পোড়া পিঠে, দুধ পিঠে,গুড় পিঠে, পাটি সাপটাতো ছিলই, তার সঙ্গে যুক্ত হতো গ্রামে পাওয়া টাটকা খেজুর গুড়ের রকমারি পিঠে। যেদিন পিঠে হতো সেদিন দুপুর থেকে বেশ একটা হইহই ব্যাপার। চাল ভেজানো, শীল নোড়ায় চাল বাটা তো থাকতই। সঙ্গে এক দু দিন আগেই বাবার উপর দায়িত্ব চাপতো ভালো খেজুর গুড় সংগ্রহ করার। তখনতো আসেপাশের গ্রামে খেজুর রসের নলেন গুড়, পাটালি গুড় খুব পাওয়া যেতো।তা তৈরি করতে ভিন গাঁয়ের লোকেরা এসে তিন চারমাসের জন্য ডেরা বাঁধতো।গ্রামের খেজুর গাছগুলিকে ওই সময়ের জন্য ভাড়ার বিনিময়ে মালিক পেতো গাছ প্রতি তিন চার কেজি গুড় । কখনো কখনো গুড়ের পরিবর্তে দামও নিত মালিকরা।অনেকে ওই সময়গুলোতে ভোরে পৌঁছে যেতো গুড় তৈরির সেইসব ঝুপড়ির দোরগোড়ায়। খেজুর রসের টানে। সেই সঙ্গে সাদা জল গুলো ধীরে ধীরে কেমন করে লাল হয়ে ওঠে তা চর্ম চোখে দেখা। নলেন গুড়ের ম ম গন্ধে এলাকাটা বেশ মিষ্টি মিষ্টি মনে হতো। তবে এখন চিনি ও রঙ মিশে সেই খেজুর গুড়ের পবিত্রতায় ভাটা পড়েছে।
এরকম সব সুখের সময়ে সুকুমারের জীবনে এসেছিল এক শোকের দিন। দিন তিনেকের প্রবল জ্বরের পর হঠাৎই এক দুপুরে দু তিনটি বমি করে মা চলে গেলো।চিকিৎসার বিশেষ সুযোগ পাওয়া যায় নি। যাবেইবা কি করে? কাছেই একটা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে। দ্বিতীয়দিন সেখান থেকে ঔষধ আনা হয়েছিল। ডাক্তারবাবু যদিও বলেছিলেন ঔষধগুলো খাওয়ান। সেরে গেলে ভালো। না হলে কলকাতা নিয়ে যাবেন। অনেক কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে হবে। সে সুযোগ দেয় নি তার মা। সুকুমার আজও জানেনা কি অসুখে মা বিদায় নিয়েছিল।
এরপর থেকে বাবাও কেমন যেন মন মরা অবস্থায় থাকতে শুরু করলো। বাবার ছিল যাত্রার নেশা। এদিক ওদিকে যেতে হতো তাকে। সব রাতে ফেরা নিশ্চিত ছিল না। ক্রমেই কারণে অকারণে রাতে বাড়ি আসাটা অনিয়মিত হয়ে পড়ছিল। ছেলেকে বোঝালেও কোন উত্তর পেতো না জবা দেবী। এভাবে কিছুদিন চলার পর বাবা আর ঘরে ফিরলো না। এদিক ওদিক, আশেপাশের লোকজন, যাত্রার সঙ্গে যুক্ত বাবার পরিচিতরা থেকে থানা পুলিশ। কোনো সন্ধান পাওয়া যায় নি। বাবার পরিচিতরা সবাই বলাবলি করেছিল মায়ের শোকে বাবা কারোর সংঙ্গেই ভালো করে কথা বলতো না। উপরন্তু বলতো এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকার আর কোনো মানে হয় না। তারপর কেটে গেছে প্রায় এক যুগ। বাবার অবর্তমানে এদিক ওদিকের সাহায্য সহানুভূতিতে প্রথম দিকে রান্না ঘরের আগুন কিছুদিন জ্বললেও ক্রমশই বোঝা যাচ্ছিল এভাবে আর পাত পড়বে না। ঠাকুমার পরামর্শেই সুকুমারের এই পিঠেপুলি বিক্রির শুরু। তাই ল্যাদের সুখ যে তার নয় এটা মাথায় আসতেই বিছানা ছেড়ে পেটের টানে উঠে পড়লো সুকুমার।বেরিয়ে পড়লো হাঁড়ি, ডাব্বা, চামচ, ছোট ছোট কাগজের বাটি নিয়ে।
রাস্তায় যেতে যেতে মনে পড়তে লাগলো শুরুর দিকে তার এই পিঠেপুলি ফেরি করার কথা।প্রথম প্রথম গ্রামের মোড়ে বসে বিক্রি করতে শুরু করেছিল সুকুমার। শীতকাল ছাড়া অন্যসময় তার কাজ ওই জন মজুরি। কিন্তু শীতকাল এলে এই কাজে সে বেরিয়ে পড়ে। এক অনন্য নেশায়। পরের দিকে গ্রাম ছেড়ে ভিন গাঁয়ে যেতে শুরু করে সুকুমার। পাশের গ্রামগুলোর ভিতর দিয়ে মিষ্টি ডাক ডেকে এগিয়ে যেত সুকু।’পিঠে পুলি খাবে নাকি গো, পিঠে পুলি। আছে দই’র ইডলি পিঠে, গুড় পিঠে, ক্ষীর পুর পিঠে,ক্ষীর পাটিসাপটা,নারকেল পাটিসাপটা, সুজির চমচম পিঠে, সাবুদানার পুলি পিঠে, পোড়া পিঠে। সুকুমারের বলার ধরণটা ছিল বেশ অন্যরকম। ভিন গাঁয়ের ছোটরা ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে বলতো তুমি কি সেই দইওয়ালার গাঁয়ের লোক? প্রথমদিন এরকম কথাটি শুনে কাঁধের বাঁকটি নামিয়ে পাটি সাপটা কয়েকটা তাদের হাতে হাতে ধরিয়ে দিয়েছিল। বলেছিল পয়সা লাগবে না। আর আমাকে এবার থেকে ‘পিঠেপুলিওয়ালা’ বলে ডেকো।
ঠাকুমা এই গল্প শুনে খুব কেঁদেছিল। কারণ সে জানতো তার আদরের সুকু পড়াশোনায় খারাপ ছিল না। আশা ছিল ঘরের, গাঁয়ের মুখ উজ্জ্বল করবে সে।মনে মনে ভাবতো তার আস্কারাতেই সে পড়াশোনায় অবহেলা করে পিঠেপুলি বানাতো।
সুকুমার ঠিক করলো আজ তাড়াতাড়িই বইমেলায় যাবে। এবারে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বইমেলা বসেছে হেঁড়িয়াতে। তার গাঁ কৃষ্ণনগর থেকে চার কিলোমিটার দূরে।বয়স্কদের মুখে ছোট থেকে শুনে এসেছে এই এলাকার ইতিহাস খুবই সমৃদ্ধশালী।১৯৪২ সালে এই অঞ্চলে ভগবানপুর ,খেজুরি থানা দখল কর্মসূচিতে বহু মানুষ যেমন গুলিবিদ্ধ হন তেমনি খেজুরি থানা বিপ্লবীরা দখলও করেছিল।পাশেই মুগবেড়িয়াতে একসময় ক্ষুদিরাম বসু স্বাধীনতা আন্দোলনের সংগঠন গড়ে তোলার লক্ষ্যে বেশ কিছুদিন বিখ্যাত নন্দ পরিবারের থেকেছেন। কিংসফোর্ডকে হত্যার উদ্যেশ্যে মজফরপুর রওয়ানা হওয়ায় ঠিক আগের ঘটনা।
তাদের সেই সব কথা শুনে যে বাড়িতে ক্ষুদিরাম থাকতো, যে সব বাড়ির উঠোনে লাঠি খেলা শেখাতো, যে মেলার মাঠে বিদেশি দ্রব্য বয়কট করার আন্দোলন করেছিল সেই সব জায়গাগুলো পিঠেপুলি বিক্রি করতে করতে ঘুরে দেখেছে সুকুমার। সেই সব মাটিতে পা দিলে মনের মধ্যে একটা আলোড়ন উঠতো। কিরকম একটা ভালো লাগা ছড়িয়ে পড়তো তার সারা শরীরে। গর্ব হতো। গায়ে কাঁটা দিত।ভাবতো এই পথেই বালক ক্ষুদিরাম গেছে। সুযোগ পেলে পিঠেপুলি বিক্রি করতে করতে ছোটদের সে এইসব গল্প শোনাতো। সুকুমারের বলার ধরনে কচি কাঁচারা যে বেশ আকৃষ্ট হতো সেটা সুকুমার নিজে বেশ বুঝতে পারতো।
আবার উল্টোদিকে খেজুরিতে রয়েছে দেশের অন্যতম প্রাচীন ডাকঘর। কেউ কেউ এটাকে ভারতবর্ষের প্রথম ডাকঘর বলে থাকে।এই খেজুরি এক সময় ভারতবর্ষের অন্যতম প্রধান বন্দর হিসাবে বিখ্যাত ছিল। রাজা রামমোহন রায় এই খেজুরি বন্দর থেকে বিদেশ যাত্রা করেছিলেন। এমন কি স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই খেজুরীর মধ্য দিয়ে বয়ে চলা ওড়িশা কোস্ট ক্যানেলের মধ্যে দিয়ে নৌকা করে ওড়িশা যাত্রা করেছিলেন। ।
এই সব ইতিহাসচর্চা খেজুরি মুগবেড়িয়া , ভগবানপুর সহ গোটা এলাকায় মানুষজনকে হয়তো আজও বইয়ের চর্চায় রেখেছে।এসব নিয়ে এলাকায় ছোটখাটো অনুষ্ঠান প্রায় লেগেই থাকে। বিশেষ করে এই শীতকালে। হয়তো এই সব চর্চার ফলস্বরূপ এই গ্রামীণ এলাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের জেলা বইমেলা।
সুকুমারের মনে একটা দুঃখ ছিল। মাধ্যমিক না উতরানো। ওই গোল পোস্টে পৌঁছাতে দু কদম আগেই থেমে যায় সে। কারণ বাবার হারিয়ে যাওয়া। আজও বাবার উপর রাগ হয়।তবে আশপাশে গাঁয়ের ছেলেমেয়েরা যখন দূরের বিদ্যালয়ে সারি বেঁধে যেতো তখন সেও তাদের পাশে পাশে হাঁটতো। পৌঁছাতো ক্লাস ঘরে। বেঞ্চে বসে শুনতো কবিতা সংকলনের কবিতার ব্যাখ্যাগুলি। অন্যদের মতো সেও বলতে শুরু করতো ‘গ্রামে গ্রামে সেই বার্তা রটি গেল ক্রমে মৈত্র মহাশয় যাইবে সাগর সঙ্গমে’। আর ঠিক তখনই তার পাশে থেকে কেউ হেসে উঠে বলতো সুকুমার কবিতা না আউড়ে কোদালটা ভালো করে চালা। না হলে ঘরের দুই প্রাণীকে উপোসে থাকতে হবে।
এই সব ভাবতে ভাবতে সুকুমার সন্ধ্যার একটু আগেই পৌঁছেছিল বইমেলাতে। গতকাল শনিবারে তার বিক্রিবাটা প্রতিদিনের তুলনায় একটু বেশিই হয়েছিল। আজ রবিবার ছুটির দিন। আরও বেশি বিক্রির সম্ভাবনা। বাহিরে কিছুটা ঘোরাঘুরি করে ঢুকে পড়েছিল বইমেলার ভিতরে। অনুরাধা লিটল ম্যাগাজিন স্টলের পাশে একটু আলো আঁধারিতে সে তার বাঁক নামিয়েছিল।
ওদিকে তখন মঞ্চে চলেছে সাহিত্য বাসর। কবিতা পড়া শোনা যাচ্ছে। তবে তার ছোটবেলার তাল গাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে, কিংবা মনে করো বিদেশ ঘুরে মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে কিংবা ভূতের মতো চেহারা যেমন নির্বোধ অতি ঘোর, যা কিছু হারায় ,গিন্নি বলেন কেষ্টা বেটাই চোর এসব কবিতা কানে আসছে না। যদিও খুব মন দিয়ে সে শুনছেও না। কারণ খরিদ্দার। এভাবেই দাঁড়াতে দাঁড়াতে হটাৎ তার চোখে পড়লো আধো অন্ধকারে স্টলের পাশে পড়ে আছে একটি ময়লা কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ। ভাবলো কেউ বই কিনতে এসে নিশ্চয় ফেলে গেছে। কৌতুহলবসত সেটিকে সে তুলে নিল । এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখল কেউ খোঁজখবর করছে কিনা।পাশের দোকানিকে জিজ্ঞাসা করতে সেও কোনো সদুত্তর দিতে পারলো না। তাই অনন্যোপায় হয়ে কুড়িয়ে পাওয়া ব্যাগটা নিয়ে বইমেলার অফিসের দিকে এগিয়ে গেল সুকুমার। অফিসের সামনে পৌঁছে বইমেলা কমিটির এক কর্তাকে সুকুমার ব্যাগটা জমা নেওয়ার আর্জি জানালো। সব শুনে কর্তাটি ব্যাগের বিবরণ দিয়ে ব্যাগের মালিককে উপযুক্ত প্রমান দিয়ে নিয়ে যেতে মাইকে বার বার ঘোষণা করতে লাগলো। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পরও কেউ না আসাতে কর্তাটি সুকুমারকে বললো ” ব্যাগটা খুলে ফেলো। ভালো করে দেখো কোনো নাম ঠিকানা পাওয়া যায় কিনা।” নিজের তাড়া থাকায় সুকুমারও দ্রুত ব্যাগ থেকে সব বের করে ফেলে। প্রথমে চোখে পড়ে বেশ কিছু রোল করা খবর কাগজের কাটিং।সবগুলিতে এক একটি আলাদা আলাদা নিবন্ধ। মিল একটাই। সেগুলো এই আশেপাশে এলাকারই ব্যক্তি, জায়গা, ইতিহাস প্রভৃতি বিষয়ে লেখা হয়েছে। তবে কোনো পাতাতেই নাম, ঠিকানা বা ফোন নম্বর লেখা নেই। এরপর ব্যাগ হাতড়ে পাওয়া গেল একটি মাঝারি মাপের খাম।ভাবলো খামের মধ্যে নিশ্চয় পাওয়া যাবে হারানো প্রাপ্তির নিরুদ্দেশের নিশ্চিত ঠিকানা।ততক্ষনে বেশ কয়েকজন উৎসাহী মানুষও ভিড় জমিয়েছে। কি হচ্ছে, ওই ব্যাগে কি আছে, তাই দেখতে। সুকুমার খামের মুখটি আলগা করতে দেখতে পেলো একটু মোটা কোনো কাগজ । বের করতেই সবাই দেখলো এটি একটি দম্পতির ছবি। বহু পুরানো হওয়ায় ছোপ ছোপ দাগ হয়ে গিয়েছে। মুখের আদলগুলি স্পষ্ট নয়। ভালো করে ছবিটির দিকে নজর দিতেই সুকুমার খুবই অবাক হয়। এ যেন তারই এখনকার ছবি। আরো আলোর সামনে নিয়ে ঝুঁকে দেখতেই তার চক্ষু চড়কগাছ।ভদ্রমহিলার ছবিটি অবিকল তার মায়ের মতো।অবাক হয়ে সুকুমার ভাবতে লাগলো মায়ের সঙ্গে এরকম ছবি সে তুলবেই বা কি করে?